প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 17, 2026 || প্রকাশের তারিখঃ Dec 21, 2025
চরের জমির পাকা ধান নিয়ে স্থানীয় কৃষক ও বিএনপি নেতাদের মধ্যে উত্তেজনা
চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি:
দ্বীপজেলা ভোলার চরফ্যাশনে চরের জমির পাকা ধান নিয়ে যৌথ কৃষি খামার বিএনপি নেতাদের মধ্যে টানটান উত্তেজেনা ও মানববন্ধন হয়েছে । সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
গতকাল শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে চরফ্যাশন উপজেলার চরমানিকা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বেড়িবাঁধের বাহিরে কৃষিজমিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত । মানববন্ধন চলাকালে কৃষি খামার সমবায় সমিতি লি :সদস্য ও বিএনপি'র নেতা প্রভাষক রেজাউল করিম খন্দকার এর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে ওঠে। পরে দক্ষিণ আইচা থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
দক্ষিণ-পূর্ব চর আইচা যৌথ কৃষি খামার সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রহমান ও কৃষক ফারুক আখন, সিরাজুল ইসলাম জানান, ১৯৭২ সালে ২ হাজার ৭০৫ জন কৃষকের নামে যৌথ কৃষি খামারের জন্য প্রায় ৩ হাজার ৮০৫ একর জমি বন্দোবস্ত নেওয়া হয়। আদালতের রায় অনুযায়ী ওই জমিতে কৃষকরা চাষাবাদ ও ধান রোপণ করেন। ধান পাকলে চরমানিকা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সরকারি মাদ্রাসা আলীয়ার প্রভাষক ও বিএনপির দক্ষিন আইচা থানার সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম খন্দকার ও তার লোকজন জোরপূর্বক পাকা ধান কেটে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে কৃষকরা ধান রক্ষা ও নিজেদের অধিকার আদায়ের দাবিতে শনিবার দুপুরে জমিতে মানববন্ধনে করেন। এসময় রেজাউল করিমের লোকজন হামলার চেষ্টা করেন। তখন পুলিশকে খবর দেয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। কৃষকরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।
অপরদিকে অপর পক্ষের কৃষক মো. আবু তাহের, ইলিয়াছ, ইয়ানুর নুরজাহান জানান, ভূমিহীনদের জমি না থাকায় দক্ষিণ চর আইচা মৌজায় ১৯৯৯ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে ৩৬৫ জন ভূমিহীন কৃষক সরকারের কাছে জমি বন্দোবস্তের আবেদন করেন। আবেদনমালা অনুযায়ী সরকার তাদের অনুকূলে জমি বন্দোবস্ত দিয়ে কবুলিয়ত ও খতিয়ান প্রদান করে। প্রায় ২৬ বছর ধরে তারা ওই জমিতে ভোগদখল ও চাষাবাদ করে আসছেন।
চরমানিকা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা প্রভাষক রেজাউল করিম খন্দকার বলেন, পূর্ব চর আইচা মৌজায় আমার কোনো জমি নেই। কৃষকরা আমাকে ডাকলে আমি তাদের ডাকে সাড়া দিই। আমি সবসময় আইন মেনে চলেছি এবং ভবিষ্যতেও কোনো সংঘাত বা বিশৃঙ্খলা চাই না।
সহকারী পুলিশ সুপার (চরফ্যাশন সার্কেল) মো. মেহেদী হাসান বলেন,ধান কাটা নিয়ে দুই পক্ষের মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং আইনজীবীসহ নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান করার জন্য বলা হয়েছে। কেউ আইন নিজের হাতে নিলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ,ওই চরের জমিতে চাষাবাদকে কেন্দ্র করে কয়েক মাসে আগে বিএনপি নেতা প্রভাষক রেজাউল করিম খন্দকার ও আবু তাহের মাষ্টারকে দা দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে ওই এলাকার বাসিন্দারা।
পাল্টাপাল্টি হামলা,মামলা ও ঝাড়ু মিছিল ও হয়েছে ইতোমধ্যে।